শিরোনাম:
বীমা শিল্প একটা দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি, বলেছেন গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড-এর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোশারফ হোসেন। ১৯৯৩ সালে জনতা ইন্সুরেন্সে যোগদানের মাধ্যমে বীমা শিল্পে পদার্পণ স্বৈরাচার বিরোধী গণ-অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতা মো: মোশাররফ হোসেনের। তারপরে তিন দশকেরও বেশী কাটিয়ে দিয়েছেন বীমা শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে। ২০০১ সালে যোগদান করেন গ্লোবাল ইন্সুইরেন্সে এবং বিভিন্ন সময়ে পদোন্নতি পেয়ে ২০১৮ সালে মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পাশ করলেও পরবর্তীতে মার্কেটিংএ এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
সম্প্রতি বীমা শিল্পের উন্নয়ন ও সমস্যা নিয়ে ইনস্যুরেন্স নিউজ বাংলা'কে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বীমা শিল্পের নানা দিক তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ইন্স্যুরেন্স নিউজ বাংলা'র সম্পাদক এমএম রহমতুল্লাহ।
ইনস্যুরেন্স নিউজ বাংলা: বীমা শিল্পে কিভাবে সম্পৃক্ত হলেন?
মো: মোশাররফ হোসেন: ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থানের একজন ছাত্রনেতা ছিলাম। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করতে করতেই আমাদের চাকুরির বয়স শেষ হয়ে যায়। সেসময় আমি বাসদ সমর্থিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রিয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলাম।
এরশাদ সরকারের পতনের পরবর্তী নির্বাচনে একদিকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ৮ দলীয় জোটের পরাজয় ঘটে। অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাওয়ায় সমাজতন্ত্রেরও পতন ঘটে।
এসময় আমার এক বন্ধু জনতা ইন্স্যুরেন্সের মালিবাগ শাখার ব্যবস্থাপক ছিলেন। বন্ধুর সহযোগিতায় তৎকালীন জনতা ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান বাবু আমাকে জনতা ইন্স্যুরেন্সে নিয়োগ প্রদান করেন। এভাবেই ১৯৯৩ সালে বীমা শিল্পে আমার সম্পৃক্ততা। ৫ বছরে জনতা ইন্স্যুরেন্সে চাকরি করে ফেডারেল ইন্স্যুরেন্সে যুক্ত হই। পরবর্তী সময়ে কিছুদিন প্রাইম ইন্স্যুরেন্সেও কাজ করি।
আইএনবিঃ গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সে কবে যোগদান করেন?
মো: মোশাররফ হোসেন: ২০০১ সালে গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সে জয়েন করি এবং বিভিন্ন সময়ে পদোন্নতি পেয়ে ২০১৮ সালে মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদের দায়িত্ব পাই।
আইএনবিঃ বীমা শিল্পে বর্তমানে কী কী সমস্যা আছে বলে আপনি মনে করেন?
মো: মোশাররফ হোসেন: বীমা শিল্পে বর্তমানে প্রধান সমস্যা ট্যারিফ ভায়োলেশন এবং অতিরিক্ত কমিশন হার।
আইএনবিঃ বীমা শিল্পের মার্কেট সাইজ অনুযায়ী এদেশে বীমা কোম্পানির সংখ্যা কি অনেকটা বেশি নয়?
মো: মোশাররফ হোসেন: জিডিপির তুলনায় এদেশে বীমা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সত্যিই বেশী।
আইএনবিঃ বীমা শিল্প দেশের অর্থনীতিতে কী ধরনের অবদান রাখছে?
মো: মোশাররফ হোসেন: বীমা শিল্প একটা দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। একমাত্র বীমাই পারে দ্রুততম সময়ের মধ্যে যে কোনো দুর্যোগ মোকাবেলা করতে। ইনস্যুরেন্স ইন্ডাস্ট্রিই এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎক্ষণিক ভূমিকা পালন করতে পারে।
আইএনবিঃ বর্তমান বীমা শিল্পের প্রসার সম্পর্কে আপনার পর্যবেক্ষণ জানতে চাই ।
মো: মোশাররফ হোসেন: সত্যি বলতে, বীমা শিল্পে বর্তমানে শৃঙ্খলার অভাব রয়েছে। রয়েছে আস্থা ও অর্থনৈতিক সংকট। বীমা শিল্পের মার্কেট ২০২৩ সালে কিছুটা সংকুচিত হয়ে গেছে। ডলার সংকট, জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা ও এবং হুতি বিদ্রোহীদের কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বীমা শিল্পে সামান্য সমস্যা ছিল। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়াতে আমি মনে করি, আগামী দিনগুলোতে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো।
আইএনবিঃ আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আপনারা কী প্রস্তুতি নিয়েছেন?
মো: মোশাররফ হোসেন: সাধারণ বীমার ক্ষেত্রে আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ট্যারিফ ভায়োলেশন এবং তথাকথিত কমিশন। আমরা বর্তমানে ইনহাউজ সংকট মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় উদোগ গ্রহণ করেছি। কমপ্লায়েন্সের ক্ষেত্রে আমরা এগিয়ে গেছি। বিভিন্ন সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারলে এদেশে বীমা শিল্পের ভবিষ্যৎ অনেক উজ্জ্বল। এ বছরটা আমাদের প্রস্তুতি নিতে নিতে গেলেও আগামী বছরে বীমা শিল্প এগিয়ে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
আইএনবিঃ বর্তমান বীমা শিল্পের প্রসার সম্পর্কে আপনার পর্যবেক্ষণ জানতে চাই।
মো: মোশাররফ হোসেন: আগেও কিছু সমস্যা ছিল। তবে বর্তমানে ক্লেইম নিয়ে সমস্যা নেই। কাগজপত্র ঠিক থাকলে দাবী আদায় হয়ে যায়। আমাদের মধ্যে একটা প্রবণতা আছে যে, আমরা ক্লায়েন্টকে সঠিকভাবে বুঝাতে পারিনা। দক্ষতা এবং আর্থিক শৃঙ্খলার অভাবে কিছুটা অনিয়ম হয় হয়তো। কিন্তু ক্লায়েন্টকে সঠিক তথ্য দিতে না পারা এবং বীমা শিল্পে দক্ষ কর্মীর অভাবকে অস্বীকার করা যায় না।
আইএনবিঃ ২০২৪ সালে ব্যবসার টার্গেট কত নির্ধারণ করছেন?
মো: মোশাররফ হোসেন: আমাদের টার্গেট ৫ পয়েন্টের কিছুটা বেশি।
আইএনবিঃ ১ মার্চকে কেন জাতীয় বীমা দিবস ঘোষণা করা হয়। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?
মো: মোশাররফ হোসেন: আমরা যে সেক্টরে কাজ করি, বাংলাদেশে এখনো এটা সম্মানজনক চাকরি হিসেবে বিবেচিত নয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধু দেখিয়েছেন যে, বীমা শিল্পে চাকুরি করেও সংসার চালানো যায়, একটা দেশ স্বাধীন করা সম্ভব।
আইএনবিঃ আপনাকে ধন্যবাদ।
মো: মোশাররফ হোসেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।