শিরোনাম:
বীমা দিবস উদযাপন মানুষের মাঝে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করছে। বলেছেন, সেনা কল্যাণ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিক শামীম, পিএসসি (অব.)।
প্রায় ৩ দশক সেনাবাহিনীতে চাকুরি করার পর তিনি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। জনাব শফিক শামীম একজন পদাতিক ব্রিগেড এবং একটি পদাতিক ব্যাটালিয়নের নেতৃত্ব দেন। সেনাবাহিনী ও ডিভিশন সদর দফতরে গুরুত্বপূর্ণ স্টাফ ছাড়াও ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ, মিরপুর, ঢাকা সহ সেনাবাহিনীর উল্লেখযোগ্য প্রশিক্ষণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পশ্চিম আফ্রিকায় জাতিসংঘের সিনিয়র সামরিক উপদেষ্টা নিয়োগ সহ মোজাম্বিক, লাইবেরিয়া এবং পশ্চিম আফ্রিকায় জাতিসংঘের সাথে তিনি দীর্ঘদিন সফল ভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০১৩ সালে সেনা কল্যাণ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডে ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং হেড অফ অপারেশনস হিসেবে যোগদান করেন। উপযুক্ত কর্মকৌশল এবং যোগ্যতার ধারাবাহিকতায় ১০ মার্চ ২০১৭ তারিখে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও'র দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স একাডেমি থেকে সার্টিফিকেট এবং স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমাসহ যুক্তরাজ্যের চার্টার্ড ইন্স্যুরেন্স ইনস্টিটিউট থেকে এইআইআই (AEII) সার্টিফিকেট সহ নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করেছেন।
তিনি কর্মীদের অনুপ্রেরণা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং লক্ষ্য নির্ধারণ উভয় ক্ষেত্রেই জড়িত থাকার মাধ্যমে আধুনিক নেতৃত্ব পদ্ধতির প্রয়োগে পারদর্শী। মালয়েশিয়া থেকে ব্যাংক অ্যাসুরেন্স এবং এভিয়েশন ইনস্যুরেন্সের উপর তার বিশেষ প্রশিক্ষণ রয়েছে। তিনি তার চিত্তাকর্ষক কৌশল এবং বীমা খাতের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে সাফল্য অর্জন করেছেন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিক শামীম কুর্মিটোলা গল্ফ ক্লাব, আর্মি গল্ফ ক্লাব, সাভার, ময়নামতি গল্ফ এবং কান্ট্রি ক্লাব, ঢাকা ক্লাব, ক্যাডেট কলেজ ক্লাবের সদস্য।
১ মার্চ জাতীয় বীমা দিবস উপলক্ষে ইনস্যুরেন্স নিউজ বাংলার বিশেষ আয়োজন “মুখ্য নির্বাহীদের দৃষ্টিতে জাতীয় বীমা দিবস” উপলক্ষ্যে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বীমা দিবসে গুরুত্বসহ বীমা সম্পর্কে নানা দিক তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ইনস্যুরেন্স নিউজ বাংলা'র সম্পাদক এম এম রহমতুল্লাহ।
ইনস্যুরেন্স নিউজ বাংলা: ব্যাংক ও বীমা দেশের অন্যতম আর্থিক খাত। সেক্ষেত্রে বীমা খাতে জাতীয় বীমা দিবস পালিত হচ্ছে। বীমা কোম্পানীর মূখ্য নির্বাহী হিসেবে বীমা দিবসকে নিয়ে আপনার অনুভূতি কি?
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিক শামীম: আজকের এই দিনে আমি গভীরভাবে স্মরণ করছি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। যিনি বীমা পেশায় ছিলেন বলেই আজকের এই দিনটি বীমা পেশাজীবিরা পেয়েছি। বীমা পেশাজীবি হিসেবে বীমা দিবসকে নিয়ে আমি গর্বিত এবং আনন্দিত। বীমা দিবসের ফলে জাতীয় পত্রিকায় ক্রোড়পত্র বের হচ্ছে। টিভিতে টকশো হচ্ছে ও সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমগুলোতে ব্যাপক প্রচার হচ্ছে, যা বীমাকে সকলের নিকট পরিচিতি দিচ্ছে।
ইনস্যুরেন্স নিউজ বাংলা: যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বীমা দিবস পালিত হচ্ছে, তার বাস্তব প্রতিফলণ কতটুকু ঘটেছে বলে আপনি মনে করেন ?
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিক শামীম: বিভাগীয় বীমা মেলা ও জাতীয় বীমা দিবস উদযাপন ইতিবাচক ধারণা তৈরি করছে মানুষের মাঝে। দাবি পরিশোধ জোরদার হওয়ায় বীমায় আস্থা বাড়ছে গ্রাহকদের। তাছাড়া, ২০১৯ সালে ইউনিফাইড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম (ইউএমপি) চালু করে পলিসিধারী বা বীমাগ্রহীতাদের মোবাইল ফোনে প্রিমিয়াম পেমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য পাঠাতে শুরু করে আইডিআরএ। এখন বীমা কোম্পানির সঙ্গে গ্রাহকদের প্রতিটি লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথেই মেসেজের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়, এভাবেই নিশ্চিত করা হচ্ছে স্বচ্ছতা।গ্রাহকদের আস্থা অর্জনে রিয়েল টাইম ভিত্তিতে ই- রিস্পিট প্রদান করা হচ্ছে।
২০২১ সালে জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি বীমা প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক ভাবে একটি কেন্দ্রিয় ডেটাবেজ সহ Integrated Accounting Software, Policy Management Software ইত্যাদির সমন্বয়ে সয়ংসম্পূণ কম্পিউটারাইজ সিস্টেমে কাজ পরিচালনা করছে। আইডিআরএ'র তথ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে ২০২২ সালে মোট বীমা প্রিমিয়াম ১২.০৪ শতাংশ বেড়েছে।
গ্রাহকরা এখন সহজেই দেখতে পারছেন তাদের প্রিমিয়াম জমা হচ্ছে কিনা। তারা মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে প্রিমিয়াম জমা দিতে পারছেন। ই-কেওয়াইসি বাস্তবায়ন, ব্যাংকাস্যুরেন্স চালুকরন, বেসরকারী খাতের জন্য বঙ্গবন্ধু শিক্ষা বীমা উন্মুক্তকরণ আশা জাগিয়েছে দেশের বীমা খাতে।
দেশে ব্যাংকাস্যুরেন্স চালু হয়েছে। নতুন এই ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলের মাধ্যমে আমরা আরো বেশি ব্যবসা করার সুযোগ পাবো। এটা বীমা খাতের পেনিট্রেশন বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। তবে অটোমেশন বা ডিজিটালাইজেশন ছাড়া এটা ফলপ্রসু হবে না। বীমা খাতে বেশ কিছু অটোমেশন বা ডিজিটালাইজেশনের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে।
একইভাবে কৃষি নির্ভর এই দেশের নন-লাইফ খাতে ক্যাটল ইন্স্যুরেন্স ও ওয়েদার বেজড ক্রপ ইন্স্যুরেন্স একটি বড় সম্ভাবনার জায়গা। তাছাড়া এবার বীমা দিবসের প্রতিপাদ্য-
"করবো বীমা, গড়বো দেশ
স্মার্ট হবে বাংলাদেশ"
বর্তমানে সরকার স্মার্ট বাংলাদেশ তৈরির দিকে মনোনিবেশ করছে, স্মার্ট পদ্ধতিতে বাংলাদেশ নতুন প্রযুক্তি এবং অবকাঠামো, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের উন্নতি এবং উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে বিনিয়োগ করছে। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য বীমা সুরক্ষার পাশাপাশি সুরক্ষা বহর নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। এটি যদি আমরা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারি, তাহলে আমরা আরো এগিয়ে যেতে পারব।
ইনস্যুরেন্স নিউজ বাংলা: অতীতের তুলনায় বর্তমানে বীমার প্রতি সাধারন মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস বাড়ছে বলে আপনি মনে করেন কি?
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিক শামীম: বিভাগীয় বীমা মেলা ও জাতীয় বীমা দিবস উদযাপন ইতিবাচক ধারণা তৈরি করছে মানুষের মাঝে। দাবি পরিশোধ জোরদার হওয়ায় বীমায় আস্থা বাড়ছে গ্রাহকদের। গ্রাহকদের আস্থা অর্জনে ইউনিফাইড ম্যাসেজিং প্ল্যাটফর্ম (ইউএমপি) চালু করা হয়েছে, রিয়েল টাইম ভিত্তিতে ই- রিস্পিট প্রদান করা হচ্ছে, বর্তমানে দেশ স্মার্ট বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে যাওয়ার কারণে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রিমিয়াম আদায় করা সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে বিমা গ্রাহকরা ঘরে বসে ব্যাংকের পাশাপাশি বিইএফটিএন ও মোবাইল ব্যাংকিং যেমন: বিকাশ, রকেট ও নগদে দ্রুত ও সহজে সুবিধা পাওয়ায় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নিকট দিন দিন গ্রাহক পর্যায়ে অভিযোগ হ্রাস পাচ্ছে। বীমা খাতের ডিজিটালাইজেশন এখন উন্নত হয়েছে। গ্রাহকরা এখন বীমা খোলা থেকে নিষ্পত্তি পর্যন্ত, সবকিছুই পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। পুরো বীমা খাত এখন অটোমেশনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে; ভবিষ্যতে এই পদ্ধতি আরও বিস্তৃত হবে ।
ইনস্যুরেন্স নিউজ বাংলা: বিপুল জনগোষ্ঠির দেশ বাংলাদেশ শিল্প বাণিজ্যে অনেক এগিয়ে গেছে । ব্যাপক আমদানী রপ্তানী হচ্ছে । সরকারী বেসরকারী ভাবে অনেক বড় বড় স্থাপনা হচ্ছে । কিন্তূ সে তুলনায় নন-লাইফ বীমার বিস্তৃতি তেমন ঘটেনি। অথচ ভারতসহ পাশ্ববর্তী দেশগুলোতে প্রতিটি বিষয় বীমার অওতাবদ্ধ থাকে। এখানে মানুষ কেন বীমা গ্রহনে অনাগ্রহী?
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিক শামীম: বাংলাদেশের বীমা খাতের উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকলেও এ খাতের প্রতি মানুষের দীর্ঘদিনের আস্থার সংকটের কারণে সে সম্ভাবনাকে সম্পূর্নভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যে বীমার আওতায় রয়েছে আট শতাংশের কম মানুষ। জিডিপিতে এ খাতের অবদান মাত্র দশমিক ৫৫ শতাংশ। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে তা চার শতাংশেরও বেশি। এখানে বীমা খাতের প্রতি সাধারণভাবে আস্থা সংকটের কারণগুলো কী খুঁজতে গেলে যা সহজে চোখে পড়ে -
•গ্রাহকদের বীমা দাবি পূরণে কোম্পানিগুলোর অনীহা এবং বীমা গ্রাহকদের মধ্যে অন্যায্য দাবি উত্থাপন করে বীমা কোম্পানির কাছ থেকে টাকা আদায়ের একটা প্রবণতা
•দক্ষ জনবলের অভাব ও বীমা কোম্পানিগুলোর পেশাদারিত্বের ঘাটতি
•সামগ্রিকভাবে এ খাতের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি
•নতুন বিমাপণ্য না আসা ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাব,
•প্রযুক্তিগত দক্ষতায় পিছিয়ে থাকা ও প্রয়োজনীয় যুগোপযোগী আইনকানুনে ঘাটতি
•কোম্পানিগুলোর মধ্যে বিরাজমান অসুস্থ প্রতিযোগিতা এ খাতের জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে প্রতিনিয়ত
•অস্থিতিশীল বিশ্ব অর্থনীতি এবং দেশের ব্যাংকিং খাতের নেতিবাচক পরিস্থিতি বীমা খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দুর্ভিক্ষের শঙ্কা, অর্থনৈতিক মন্দা, মূল্যস্ফীতি- এসবই সঞ্চয়বিমুখ করছে প্রত্যাশিত বীমা গ্রাহকদের।
এমনিতেই খাতটির ইমেজ সংকট কাটানো যাচ্ছে না । দেশের বড় দুটি বীমা কোম্পানি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে । দুর্নীতির কবলে পড়ে দুটি কোম্পানিই এখন খারাপ অবস্থায় আছে। কয়েকটি বীমা কোম্পানির দাবি পরিশোধ এখনো সন্তোষজনক পর্যায়ে আসেনি। এ কারণে মানুষের মাঝে আস্থার সংকট থেকেই যাচ্ছে।
এরইমধ্যে ডলারের দাম বেড়েছে, এলসির সংকট দেখা দিয়েছে। যার ফলে নন-লাইফ বীমার মেরিন ব্যবসা আরো কমে গেছে। তাছাড়া বড় বড় বীমা পলিসির জন্য বিদেশে পুন: বীমা করাও বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। এছাড়া দেশে রেমিটেন্স আসার পরিমাণ কমেছে, যার বড় প্রভাব থাকবে বীমা খাতে।
ইনস্যুরেন্স নিউজ বাংলা: বীমা দাবী পরিশোধের বিষয়ে আপনার মূল্যায়ন উল্লেখ্য করুন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিক শামীম: বীমা মানুষের অর্থনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। অনাকাঙ্খিত ক্ষতিপূরন করতেই বীমা শিল্পের উৎপত্তি ও বিকাশ। তাই বীমা দাবীর প্রাপ্যতা বীমা গ্রাহকের আইনগত অধিকার । সেনা কল্যান ইন্স্যুরেন্স গ্রাহকের এই অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বীমা দাবী নিষ্পত্তি করে থাকে । বীমা দাবী নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কোম্পানী কোন প্রকার দীর্ঘসূত্রতার আশ্রয় নেয় না। বীমা পলিসির শর্তানুযায়ী বীমা দাবী উত্থাপিত হলে কোম্পানী বীমা দাবী আবেদনের সাথে প্রাপ্ত কাগজপত্রাদি যাচাই বাছাই পূর্বক দাবীটি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বিন্দু মাত্র বিলম্ব করে না, কারন বীমা দাবী নিষ্পত্তির মাধ্যমে গ্রাহক সন্তুষ্টি অর্জনে কোম্পানী সদায় সচেষ্ট।
ইনস্যুরেন্স নিউজ বাংলা: সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী আপনার প্রতিষ্ঠানের বীমার সংখ্যা, পরিশোধিত দাবির সংখ্যা ও টাকার পরিমাণ, দাবি নিষ্পত্তির হার, সম্পদের পরিমান ও বর্তমান বিনিয়োগ কত ?
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিক শামীম: সর্বশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদন-২০২৩ এর তথ্য অনুযায়ী আমাদের প্রতিষ্ঠানের-
•বীমার সংখ্যা – ১০,১১১ টি ।
•পরিশোধিত দাবির সংখ্যা – ৯২টি ।
•পরিশোধিত দাবির টাকার পরিমাণ – ১৩,৩৩,০৮,৪০৭/-
•দাবী নিষ্পত্তির হার – ৯৮% ।
•সম্পদের পরিমাণ– ১৬০,০৫,৩৯,২৭৬/-
•বর্তমান বিনিয়োগের পরিমাণ – ১২৮,৭০,২২,০৩৮/-
ইনস্যুরেন্স নিউজ বাংলা: বীমা খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করেন ?
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিক শামীম: বীমা খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে বিআইএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সংগঠনটির বীমা শিল্পের উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানে নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে। বিশেষ করে বিআইএ'র বর্তমান প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেনের বিচক্ষণ ও দূরদর্শী চিন্তাচেতনায় বাংলাদেশের বীমা খাত অনেক এগিয়ে গেছে।
বিআইএ'র অনুসন্ধানী দৃষ্টির ফলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বীমা শিল্পে সম্পৃক্ততা ও যোগদানের তারিখ উদঘাটিত হয়। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বীমা শিল্পে যোগদানের তারিখ ১ মার্চকে জাতীয় বীমা দিবস ঘোষণা করেন।
বিগত দিনে ১৯৩৮ সালের বীমা আইনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বীমা অধিদফতরের মাধ্যমে বীমা কোম্পানিগুলো পরিচালিত হতো। বিআইএ'র পদক্ষেপের ফলে সরকার বীমা আইন যুগোপযোগী করে ২০১০ সালে আইডিআরএ গঠন করে। আইডিআরএ গঠনের ফলে বীমা কোম্পানিগুলোতে জবাবদিহিতাসহ শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে।
ইনস্যুরেন্স নিউজ বাংলা: বীমা খাতের উন্নয়নে নিয়ন্ত্রণ সংস্থাকে কি কি ধরনের উদ্যোগ নিতে হবে বলে আপনি মনে করেন ?
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিক শামীম: বীমার প্রতি মানুষের অনীহা দূর করতে হলে সরকারি নির্দেশনার প্রয়োজন রয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ জীবনযাপনের নানা বিষয় বীমার আওতায় আনার ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত নীতিমালা প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। বীমা যেহেতু মানুষের জীবনের এবং সম্পদের ঝুঁকি গ্রহণ করে সে ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগকে মাথায় রেখে দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানকার মানুষ এবং তাদের সম্পদের জন্য বিশেষ পলিসি গ্রহণ করতে হবে।
তা ছাড়া দেশে বীমাসংক্রান্ত গবেষণা কম। এ-সংক্রান্ত গবেষণা বৃদ্ধি করতে হবে। গবেষণা বীমা শিল্পের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সমস্যা চিহ্নিত করবে এবং করণীয় দিকগুলো নির্ধারণ করে দেবে। গবেষণা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন ফেলোশিপ বা বৃত্তির আয়োজন করা যেতে পারে। গবেষণার পাশাপাশি বীমা সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। এর জন্য বিভিন্ন সেমিনার, সিম্পোজিয়াম এবং বিজনেস সামিটের আয়োজন করা যেতে পারে।
শুধু শহর এলাকার মানুষ, কলকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংকঋণ কার্যক্রম, পরিবহন, আমদানি-রপ্তানি প্রভৃতির মধ্যে বীমা খাতকে সীমাবদ্ধ না রেখে কৃষি খাত, কৃষক, উৎপাদিত ফসল, কৃষিজাত পণ্য বাজারজাতকরণ, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগির খামার, হাওর, কৃষিজমিকে বীমার আওতায় আনার বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
বাংলাদেশে আজকাল প্রায় বড় বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। তাতে জানমালের বিপুল ক্ষতি হচ্ছে। বীমাকৃত না হওয়ায় সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার তেমন কোনো সুযোগ থাকছে না। সময়ের দাবি পূরণে দেশের বিভিন্ন আবাসিক-বাণিজ্যিক ভবন ও শিল্পকারখানাকে আবশ্যিকভাবে বীমার আওতায় আনার ব্যাপারে তৎপর হতে হবে সংশ্লিষ্ট মহলকে।