শিরোনাম:
মঙ্গলবার ইআরএফ মিলনায়তনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনায় বক্তৃতা করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের বিশিষ্ট ফেলো মুস্তাফিজুর রহমান।
এমএম রহমতুল্লাহ: দেশের অর্থনীতির স্বার্থে তিনটি ক্ষেত্রে সংস্কার জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি আরো বলেন, কষ্টকর হলেও সংস্কার করা উচিত। এটি অর্থনীতিতে একধরনের ভারসাম্য আনবে।
“অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমানের সাথে কথোপকথন” শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সিপিডির বিশিষ্ট ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান।
মঙ্গলবার ঢাকার পুরানা পল্টনে ইআরএফ কার্যালয়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি মোহাম্মদ রেফায়েত উল্লাহ মীরধা, সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।
মি: রহমান আরো বলেন, নতুন আয়কর আইন পাসের পাশাপাশি সরকার ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পরামর্শ দিয়েছে যে তাই, পাস করা বা সংশোধিত আইনগুলিকে এমনভাবে দেখা উচিত নয় বরং ব্যাংকিং খাতে শাসন ব্যবস্থার উন্নতি এবং রাজস্ব বৃদ্ধির দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত। আইনগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে গেলে কিছু মানুষের ওপর চাপ বাড়বে। রাজনীতিবিদদের সেই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে।
মুস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, খোলা বাজারের সঙ্গে ডলারের দাম সমন্বয় করা উচিত। তিনি বলেন, ডলারের দামের ক্ষেত্রে শক থেরাপি দিতে হবে, হয়তো নির্বাচনের অপেক্ষা। ডলারের মূল্যে বড় ধরনের সমন্বয় পণ্য আমদানির খরচ বাড়িয়ে দেবে। তখন আমদানি শুল্ক কমানোর মতো আর্থিক উদ্যোগ নিতে হবে। তবে ডলারের মূল্য বাড়লে পণ্য রপ্তানিতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে। রপ্তানিকারকদের প্রণোদনা দিতে হবে না। অন্যদিকে ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী আয় বাড়বে। এ ছাড়া ব্যাংক ঋণের সুদের হার বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করার বিষয়ে মত দেন তিনি।
মোস্তাফিজুর রহমান মূল্যস্ফীতি, পণ্য রপ্তানি, রাজনীতি, আসন্ন সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দেন। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার গত নভেম্বরে নতুন শ্রমনীতি ঘোষণা করার পর বাণিজ্যে একধরনের নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে, এমন আশঙ্কায় উদ্যোক্তারা চিন্তিত। নিষেধাজ্ঞা আসার শঙ্কা রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সিপিডির এই বিশেষ ফেলো বলেন, ‘বাণিজ্যে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা আসবে কি আসবে না, এলে কোন পদ্ধতিতে আসবে, সেটি অনুমান করা কঠিন। আমরা দেখেছি, শ্রম অধিকার ও কর্মপরিবেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু প্রশ্ন তুলেছে। এমন প্রেক্ষাপটে বলতে চাই, আমাদের যেসব জায়গায় উন্নতি করার প্রয়োজন আছে, সেগুলো যেন আমরা করি। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে সেগুলো আমরা করতে পারি।’
এ বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, ‘শ্রমিকেরা এক দিনে সবকিছু চাইছেন না। তাঁদের পাশ কাটিয়ে কিংবা সঠিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সমস্যা বাড়ে। ফলে তাঁদের কথা শুনে সমস্যা সমাধানে একটি রূপকল্প (রোডম্যাপ) প্রণয়ন করা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্র কী করবে না–করবে, তারা জানে। নিষেধাজ্ঞা দিতেও পারে। তবে আমরা যত শৈথিল্য দেখাব, ততই দেশটির আকাঙ্ক্ষা বাড়বে।’
সরকারদলীয় প্রার্থীদের অর্থসম্পদ কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্নে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘প্রার্থীদের হলফনামা দেখে বিস্মিত, চমৎকৃত ও আশ্চর্যান্বিত হয়েছি। এত কম সময়ে তাঁরা এত টাকার মালিক কীভাবে হলেন, সেটি একটি প্রশ্ন। যদিও এক কোটি টাকার জমির দাম এক লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে হলফনামার থেকেও প্রকৃত সম্পত্তির পরিমাণ অনেক বেশি হবে। রাজনৈতিক দলের উচিত তাদের প্রার্থীদের সম্পদের বিশ্লেষণ করা। দুর্নীতি দমন কমিশনেরও (দুদক) বিষয়টি নিয়ে কাজ করা দরকার যে প্রার্থীদের এই বিপুল পরিমাণ সম্পদ যৌক্তিক, অযৌক্তিক, নাকি অনৈতিক।’