শিরোনাম:

দুর্নীতি, আমানতের টাকা আত্মসাৎ ও গ্রাহকের দাবী পরিশোধে ব্যর্থতায় বিএসইসি’র শাস্তির মুখে ফারইস্ট

নিজস্ব রিপোর্ট আগস্ট ১৫, ২০২১


দুর্নীতি, আমানতের টাকা আত্মসাৎ ও গ্রাহকের দাবী পরিশোধে অক্ষমতাসহ নানা অনিয়মের দায়ে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা কোম্পানী ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়া হবে। শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড কমিশন-বিএসইসি’র গত ১১ আগস্ট অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশন এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করবে । সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে ।

জানা গেছে, গ্রাহকদের দাবি পরিশোধ না করাসহ নানা আর্থিক অনিয়ম খতিয়ে দেখতে চলতি বছরের জুন মাসে কোম্পানীটিরর বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিএসইসি। কোম্পানীর একজন উদ্যোক্তা পরিচালকসহ বেশ কয়েকজনের অভিযোগের  প্রেক্ষিতে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯-এর ২১ ধারা ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩-এর ১৭ক ধারা অনুযায়ী এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন বিএসইসির সহকারী পরিচালক মো. শাহনেওয়াজ ও মো. সিরাজুল ইসলাম। তদন্ত কমিটি বেশ কিছু অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা চিহ্নিত করেছে। এর আগে প্রাথমিকভাবেই ফারইস্ট ইসলামী লাইফের আর্থিক প্রতিবেদনে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে এক প্রভাবশালী পরিচালককে আর্থিক সুবিধা দিতে গিয়ে কোম্পানীর স্থায়ী আমানত  ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। ফলে কোম্পানীর তিন বছরের আর্থিক প্রতিবেদন বিশেষ নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি। ওই নিরীক্ষা অনুসারে ২০১৬ সালে বিভিন্ন ব্যাংকে কোম্পানীর স্থায়ী আমানত ছিল এক হাজার ৪৩১ কোটি টাকা। আর ২০১৮ সালে তা ৪১৩ কোটি টাকায় নেমে আসে। ২০১৭ সালে কোম্পানীর বিনিয়োগ ছিল ২৭৫ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে তা কমে ২৫১ কোটি টাকায় নেমে আসে। ২০১৯ সালের জানুয়ারী-সেপ্টেম্বর সময়কালে, কোম্পানীর মোট জীবন বিমা পলিসির তিন হাজার ২৬৯ কোটি টাকা থেকে ৬৩ কোটি টাকা কমেছে। আর আর্থিক সক্ষমতা কমে যাওয়ায় গ্রাহকদের দাবি যথাযথভাবে পূরণ করতে পারছে না কোম্পানীটি। এতে কোম্পানীর গ্রাহক হারানোর পাশাপাশি জীবন বীমা পলিসিও কমেছে। একই সঙ্গে ফারইস্ট লাইফের বিনিয়োগের পরিমাণও কমেছে।

বর্তমানে ফারইস্টের পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে রয়েছেন মো. নজরুল ইসলাম এবং ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. ইফফাত জাহান। পরিচালক হিসাবে রয়েছেন মো. হেলাল মিয়া, ড. মো. মোকাদ্দেস হোসেন, আয়েশা হুসনে জাহান, নাজনীন হোসেন, ড. মো. মনোয়ার হোসেন, রাবেয়া বেগম, মুসলিমা শিরিন, মোহাম্মদ সোহেল আরিফ এবং আবদুল আউয়াল। এ ছাড়াও স্বতন্ত্র পরিচালক হিসাবে রয়েছেন এবিএম হোসাইন আহমেদ, মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা এবং মো. আকতার হোসেন সান্নামাত।

২০০৫ সালে কোম্পানীটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে পরিশোধিত মূলধন ৭৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। আর শেয়ার সংখ্যা সাত কোটি ৪৭ লাখ ৪২ হাজার। এর মধ্যে উদ্যোক্তাদের ৩০ দশমিক ৫৫ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪১ দশমিক ১৯ শতাংশ, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক ৮১ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। সর্বশেষ গত ১২ আগস্ট কোম্পানীর ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের বাজার মূল্য ছিল ৫৮ দশমিক ৫০ টাকা।